www.muktobak.com

“দর্শক ধরে রাখাই সংবাদ উপস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ”


 মুক্তবাক রিপোর্ট    ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৫৩    সাক্ষাৎকার


( ২ বছরের বেশি খবর পড়ছেন দেশের ২৪ঘণ্টার সংবাদ ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল 24 এর চট্টগ্রাম কেন্দ্রে।  এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্র। যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে। তাই চট্টগ্রাম শুধু নয় সোহেলী চাকমার পরিচিত দেশের সীমা ছাড়িয়ে। মুক্তবাকের আলাপনে নানা প্রসঙ্গ উঠে এলো এই পাহাড়ি কন্যার কণ্ঠে। )

প্রশ্ন : জন্ম এবং বেড়ে উঠা কোথায়?

সোহেলী: বাবা সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ায় জন্ম গাজীপুর জেলায়, তবে বেড়ে উঠা খাগড়াছড়িতেই।

প্রশ্ন: পড়াশোনার শুরু কী গাজীপুরে নাকি খাগড়াছড়িতেই? 

সোহেলী: খাগড়াছড়িতেই। খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যভাষা সংস্কৃত নিয়ে মাস্টার্সে পড়ছি। স্কুলে পড়ার সময় আমার রেজাল্ট ভালই ছিল। সবসময় ১ম অথবা ২য় হতাম। যার কারণে শিক্ষকরা খুব ভালবাসতেন আমাকে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ বা প্রতিযোগিতায় আমি স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করতাম। আমি মনে করি এই কর্মকান্ডগুলোই আমাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে তাই আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: পড়ালেখার বাইরের জগতে কিভাবে জড়ালেন?

সোহেলী: আমার বড় দিদি আর ছোট দিদি দুজনেই নাচ করতেন। তাই বলা যায় বাড়িতে সাংস্কৃতিক চর্চা আগে থেকেই ছিল। তবে, আমার গানের প্রতি আকর্ষণ বেশি ছিল। একদিন একটা পিকনিকে লটারিতে আমার ভাগ্যে গান পড়ে। আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তাম। আমি গান করি এবং প্রথম পুরস্কারটা আমিই পাই। এরপর পরিবার আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করে দেয়। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোরাস করতে করতে একক গান গাওয়া শুরু করি। তবে সকালে উঠে রেওয়াজ করাটা একটু কঠিন লাগত আমার কাছে। কিন্তু সে সময় মা আমাকে রেওয়াজ করিয়েই ছাড়তেন। পরে গানের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতাম। এর পর ধীরে ধীরে এটিএন বাংলায় নৃ-গোষ্ঠীদের অনুষ্ঠানেও উপস্থাপনা শুরু করি। বর্তমানে বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করি আর চ্যানেল 24 এ নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে আছি। আমার কিছু ত্রিপুরা ভাষায় মৌলিক গান আর একটি মৌলিক বাংলা গানও আছে। যার কথা ও সুর আমার নিজেরই করা এবং গেয়েছিও আমি।

প্রশ্ন: বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেওতো কাজ করছেন?

সোহেলী: সামাজিক সংগঠন ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি ছিলাম। এছাড়া ২০১৭-১৮সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রশ্ন: উপস্থাপনা শুরু কবে থেকে?

সোহেলী: মঞ্চে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা অনেক আগে থেকেই তবে নিয়মিত টিভি শো হিসেবে প্রথম ২০১৫-২০১৬ সালে এটিএন বাংলার “শৈল-সমতল” অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করি। আর ২০১৪ থেকে অদ্যাবধি বিটিভি,চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। আর সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে খবর পড়ছি ২৪ ঘন্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে। প্রশ্ন: অনুষ্ঠান উপস্থাপক থেকে খবর উপস্থাপক হলেন। এক জগত থেক আরেক জগতে জড়ালেন কিভাবে? সোহেলী: আসলে আমার মতে দূটো অবশ্যই দুই জিনিস। দুই জাগায় দুইভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে হয় এবং স্কিল ডেলিভারি ও ভিন্ন। বাট অনুষ্ঠান উপস্থাপন থেকে খবর উপস্থাপনে একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল, তা হল আমার আগেই ক্যামেরা ভীতি টা ছিল না। খবর পড়ছি প্রায় দু বছর। ছোটবেলা থেকেই সংবাদ পাঠকদের দেখে তাদের মত হওয়ার একটা সুপ্ত ইচ্ছা মনে লালন করে আসছিলাম। একদিন শুনলাম চ্যানেল টুয়েন্টিফোর চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিউজ প্রেজেন্টার নেবে। সিভি জমা দিলাম। ভাইভা ও অডিশন দিয়ে টিকে গেলাম। এটা আমার অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা। আমি খুব উপভোগ করি এই কাজটাকে। এ জন্য আমি অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে চাই তখনকার চ্যানেল ২৪ এর খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি প্রদীপ চৌধুরী দাদাকে। তিনি আমাকে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে নিয়োগের তথ্যটি দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন: কতটা চ্যালেঞ্জের এ কাজ?

সোহেলী: এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের কাজ। লাইভে বসে সারা দেশের এবং দেশের বাইরের খবর দর্শকদের জানানো। এদিকে আবার টকব্যাকে PCR এর হাইপার নিয়ে অটোকিউ কন্ট্রোল করে নির্ভুল নিউজ পড়া, এককথায় পঞ্চইন্দ্রীয় সজাগ রাখা।   একসাথে অনেক কিছু সামলাতে হয়। এতোকিছুর পরও যে বিষয়টা বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয় তা হল, আমি যে নিউজটি  দিচ্ছি তা দর্শক কতটা কানেক্ট করতে পারছে? দর্শক কানেক্ট করাই একজন প্রেজেন্টারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন: যারা সংবাদ উপস্থাপনা করতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

সোহেলী: কেউ যদি নিউজ প্রেজেন্টেশনে আগ্রহী হন তাদের জন্য বলবো বেশি বেশি করে ভালো প্রেজেন্টারদের নিউজ দেখতে পারেন। আর শুদ্ধ উচ্চারণে পত্রিকা নিজে নিজে প্রেজেন্টেশনের মতো করে প্রতিনিয়ত অনুশীলন করতে পারেন। অবশ্যই নিজেকে মাল্টি(একি সময়ে কয়েকটা কাজ করার ক্ষমতা রাখা) করার চেষ্টা করবেন আর হ্যাঁ অবশ্যই ইচ্ছা পূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। জানা বোঝার জায়গা শক্তিশালী হতে হবে। তবেই সাফল্য নিশ্চিত।

প্রশ্ন: ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

সোহেলী: নিউজ প্রেজেন্টেশন এই প্রফেশনটা আসলে আমার ভালোবাসা। কথায় বলে প্রফেশন আর ভালোলাগা যদি এক হয় তাহলে সবসময়ই হলিডে। আমার অবস্থাও তাই। তবে হ্যাঁ ভবিষ্যতে আর যাই করি না কেন এই কাজটা কখনো ছাড়বো না। সামর্থ হলে ভবিষ্যতে একটি অনাথ আশ্রম করতে চাই যেখানে অনাথ বাচ্চারা থাকবে। পড়াশুনা ও অন্যান্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে প্রতিষ্ঠিত তারাও অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়াবে। এটাই আমার স্বপ্ন। আর এখনও অনাথ বাচ্চাদের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যতটুকু কাজ করা যায়, সহযোগিতা করা যায় করছি।




 আরও খবর